সাদিয়ার গল্প
সাদিয়ার
গল্প
০০০ আলমগীর
জয় ০০০
অনেকদিন ধরেই চেস্টা
করছি একটি গল্প লিখতে; কিন্তু পারছি না। এই ধরুন সাদিয়াকে নিয়ে গল্প লিখবো। অনেকবার
ভাবলাম কিভাবে লিখবো, তার জীবনের কোন দিকটা ফুটিয়ে তুলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।
সাদিয়া একেবারে
গ্রামের সাদামাটা একটি মেয়ে। পুরো নাম সাথী আক্তার সাদিয়া। এটি কি অরিজিনাল নাকি বানানো
নাম, তাও জানি না। কেননা এই লাইনের মেয়েরা একই সময়ে একাধিক নাম ঠিকানা বলতে পারে। এমনকি
বাবা বা স্বামীর নামও পাল্টে ফেলে অনায়েসে। আর না পাল্টেই কি করবে? সমাজে অরিজিনাল
নাম প্রকাশ পেলে সবাই ঘৃনা করবে। ওদের পরিবারও বেইজ্জতি হবে। কিছুক্ষণ আগেও যে লোকটি
ওকে ব্যবহার করে গেল সেও ওদের খারাপ বলে।
জেলার ‘গড়ার বিপরীত
শব্দ’ উপজেলার ‘বাগান পরিচর্যা পেশা প্লাস গ্রাম’ ইউনিয়নের একটি গ্রামের দিন মজুর পিতা
এবং গৃহিনী মাতার বড় মেয়ে ও। আরো দুই ভাই, এক বোন রয়েছে ওদের সংসারে। মোট ছয় জনের সংসার।
দিন মজুরী করে সংসার চালানো বাবার পক্ষে কষ্টসাধ্য। গরু পালন, কামলা দিয়ে কোন রকমে
সংসার চলেছে। সংসার চালাতে যেয়ে ইতিমধ্যে অনেক টাকা সুদি করে নিয়ে ঋন গ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
দেখতে সুন্দর,
গঠনে আকর্ষনীয়া সাদিয়া ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন একই গ্রামের আধারের প্রেমে পড়ে। চন্দ্র
সূর্য আর গাছপালাকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করে গোপনে চলতে থাকে তাদের মধুর অভিসার। উঠতি
বয়সের অভিসারে এককান দুকান করে পরিবারের কানেও চলে যায়। অভিসার জোড়ালে করতে ওরা কোর্ট
ম্যারেজ করে নেয়। কিন্তু পরিবারের চাপে, ছেলেটা খারাপ এই মগজ ধোলাইতে পড়ে এক সময় উপজেলা
সদরে যেয়ে ডিভোর্স দেয় আধারকে।
পাশের বাড়ির ভাবীর
সাথে সাদিয়ার খুব ভাব। ভাবী বলে সে বিদেশে যাবে। এক সময় চলেও যায়। ভাবী বিদেশে যাওয়ার
সময় তার মোবাইলটি সাদিয়াকে দিয়ে যায়। বিদেশ বসে কথা হয় ওদের। স্বপ্ন বুনতে থাকে সাদিয়া।
ভাবী পাসপোর্ট দালাল মাহীনের নাম্বার দেয়। যোগযোগ করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে পাসপোর্ট
আর হয়না।
কি মনে করে যেন
পাসপোর্ট দালাল মাহীনকে সেদিন ফোন দেয় সাদিয়া। মাহীন ওকে বলে প্রচুর টাকা ইনকাম করার
পথ। ঘোরে পড়ে সাদিয়া। রাজি হয়। চন্দ্রপাড়া বেড়ানোর কথা বলে ব্যাগ গুছিয়া রওনা দেয় সাদিয়া।
মাহীনের কথা মত সুফিয়ার সাথে দেখা করে। শহরের ঝিলটুলী সোনালী ব্যাংকের পেছনের ছয়তলা
ভবনের নিচতলায় উঠে। সুফিয়া রাতে তাকে রেখে চলে যায় আসে সকালে। এসেই বলে রেডি হ। সাদিয়ার
এই লাইনে প্রথম কাস্টমার।
পাঁচশত টাকা পেয়ে
সাদিয়ার বেশ ভালই লাগে। সুফিয়ার কথায় আকাশে উড়তে থাকে সাদিয়া। দিনে এরকম চার-পাঁচটি
পাঁচশ টাকার নোট মিলে প্রায় ২ হাজার টাকা হবে। খরচ-বরচ বাদে মাসে কমপক্ষে ৩০ হাজার
টাকা ইনকাম হবে। বাবার ঋণের টাকা শোধ হবে, ছোট ভাইবোনেরা পড়ালেখা করবে। হঠাৎ সম্বিত
ফিরে সাদিয়ার। দরজায় কে যেন খটখট করছে। দরজা খুলে দিল।
মোবাইল কোর্ট,
পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলখানায় ও অভ্যস্ত নয়; কিন্তু বিধাতা বাম। প্রথম দিনে, প্রথম
উপার্জন শেষ হতে না হতেই কারাগারে। সাদিয়া জানে এসব কাজ অন্যায়; কিন্তু কি ই বা করার
ছিল …………
-০-
ফরিদপুর
২৩ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রি:

Comments
Post a Comment