Posts

Showing posts from 2020

স্নিগ্ধ, প্রশান্ত ও কোমল তারা‘র খোঁজে অতুল

Image
  ০ আলমগীর জয় ০ দুপুর আর বিকেলের মাঝে ক্ষনিক সময়ের জন্য সেদিন শহরের উপর দিয়ে এক পশলা বৃষ্ঠি হয়েছিল। গাছের পাতাগুলো একটু ছোয়া পেয়েছিল, পথ ঘাটের উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধুলাবালি মাটিতে লেপ্টে গিয়েছিল। প্রকৃতির খেয়াল বোঝা মুশকিল। বিকেল তখন যৌবনে, কালো মেঘ কেটে গিয়ে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে পুঞ্জ পুঞ্জ সাদা মেঘ। বাতাশে হেলে দুলে একের গায়ের বৃষ্টির পানি অপরকে ছিটিয়ে দিচ্ছিল আর হেসে যেন কুটিকুটি খাচ্ছিল পদ্মা পাড়ের কাশ ফুল গুলো। কাশফুলের শুভ্রতা আর দিগন্ত জোড়া সবুজ আমন, নাবি আমন ধানের ক্ষেত চোখ জুড়িয়ে দেয়। দৃষ্টির সীমানায় দু চারটা প্লটে খড়ের আস্তরণ ভেদ করে আখের চারা গুলো এদিক সেদিক তাকাতাকিতে ব্যস্ত। ভেজা এবং স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আগাম শীতের মুলা, লালশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুনের বীজ তলা করে ধামা কাখে কৃষানীকে তখন ফিরতে শুরু করেছে আঙ্গিনার দিকে। সৌন্দর্য পিয়াসীরা তখনো গোধূলি-আকাশে মগ্ন। পাখিরা দল বেধে গাছের ডালে বসে দিনের সর্বশেষ আলাপ আলোচনা সেরে নিচ্ছিল। শহরের কোলাহলে এ সৌন্দর্য প্রায় অনুপস্থিত। তথাপি হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ফাঁকে চোখ গলিয়ে নীল আকাশের তুলার মতো সাদা মেঘ কজনের...

মাথার বুদ্ধি যখন হাটুর নিচে

Image
০ আলমগীর জয় ০  সূফীবাদে একটি কথা খুব প্রচলিত।‘আধ্যাত্নিক জ্ঞান থাকে সিনায় আর জাগতিক জ্ঞান থাকে মাথায়।’ সিনার জ্ঞান সিনায় সিনায় ট্রান্সফার হয় আর মাথার জ্ঞান অর্জিত হয় বই পড়ে; কাজ-কর্ম দেখে দেখে; অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। এবারে একটি বাস্তব ঘটনা বলি। তবে স্থান কাল পাত্র কোন কিছুই বলবো না।   জনপ্রিয় এবং খুবই কর্মঠ-মেধাবী প্রিন্সিপাল স্যার বসে আছেন তার কক্ষে- চেয়ারে। কিছু ছাত্র, তারা আবার নেতাও বটে। স্যারের রুমে ঢুকল- হাতে দরখাস্ত। স্যার রসিক মানুষও। সব শিক্ষার্থীই অতি আপন, তুমি তুই প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্বোধন করেন। বললেন- কিরে কি নিয়ে এসেছিস; দরখাস্ত এগিয়ে দিলে দেখে বললেন, যাহ, অনুমতি দিয়ে দিলাম। দে, কলম দে, সই করে দেই। বুক পকেট থেকে বের করে স্যারের হাতে দেয়া হল। সবাই তাকিয়ে স্যারের মুখের দিকে। হঠাৎ স্যার হুঙ্কার দিয়ে বললেন, তোরা আমাকে তোদের সামনে এই বয়সে বিড়ি খেতে দিচ্ছিস? সম্বিৎ ফিরে পেল ছাত্ররা। সরি বলে ওটাকে ফেরত নিল। স্যার বললেন, সিঙ্গেল সিগারেট কখনোই বুক পকেটে রাখতে নেই, রাখলে আজকের মত সব সময়ই লজ্জা পাবি। কিরে লজ্জা পেয়েছিস?... ভুল হয়ে গেছে স্যার... সরি... সমস্বরে .... ...

‘ডায়ালের অপর প্রান্তে রিসিভ ই হয় না’

Image
০ আলমগীর জয় ০   মেয়েটা আমার প্রতিদিন সংযোগের আশায় ডায়াল করে। ডায়াল করেই কানে দেয়। তারপর সে কিছু বলতে থাকে। কি যে বলে, সে নিজেই বুঝে কিনা জানি না। অনেকক্ষন বলে বলে শেষ সময়ে আশাবাদ ব্যক্তের ভঙ্গিমায় মাথা নেড়ে রেখে দেয়।আবার সে একই কাজ করে। দিনে অসংখ্যবার করতেই থাকে। আমি দেখি আর মনে মনে হাসি।   মেয়েটা আমার মাত্র ১৭ মাসের। বাবা-আব্বা, ও বাবা- ও আব্বা শব্দ গুলোই বেশি বলে। কদাচিৎ মা এবং আপা বলে। আপাতত এ শব্দগুলোই শিখেছে। এর  বাইরে ভা (ভাই)-দা (দাদা) বলতে পারে।   সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেই সংযোগ যন্ত্রটা আমার থেকে নিবে। চেপে চেপে লক খুলতেও পারে। কিছুক্ষন বাটন চাপবে। তারপরেই কানে দিবে।কি বাটন চাপল ওই জানে। মাঝে মাঝে চেক করি। কখনো কখনো সেভ করা নাম্বারেও ডায়াল করে।তবে বেশির ভাগ ডায়ালই থাকে অসম্পূর্ণ।   আমি ডায়াল করে বাবা-মা-ভাই-শশুড়-শাশুড়ী’র সাথে কথা বলা শেষে ওকেও দেই। আর ও যখন নিজে নিজে ডায়াল করে, হোক সেটা অসম্পূর্ণ বা ভুল, হয়তো ও ভাবে, ও তাদের সাথেই কথা বলছে। ও পাশ থেকে রিসিভ না হলেও, রিসিভ হয়েছে মর্মেই ওর ভাষায় কথা বলে। ও বুঝতে পারে না যে, রিসিভ হয়নি।তথাপি বল...

আমি কালো-অসুন্দর মেয়ে; কিন্তু যোগ্যতাপূর্ণ

Image
০ আয়শা সিদ্দিকা আকাশী ০ ওর চেহারা কুৎস্রি, বাজে, কুৎসিত ইত্যাদি ফেসবুকের একটি কমেন্ডসে লিখেছিলেন আমার এক সাংবাদিক সহকর্মী। আমি দেখে একটুও অবাক হয়নি। কারণ আমি এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত। কিন্তু আমার আরো কয়েকজন সহকর্মী বলেছিলেন আসুন আমরা এর প্রতিবাদ করি। আমি বলেছিলাম-বাদ দাও, এ কিছু না, চলার পথে কত কি শুনতে হয়। তবে আমি ঐ সহকর্মীর লেখা দেখে মনে মনে হেসেছিলাম। কারণ এখন আর সেই যুগ নেই, শুধু মেয়েদেরই সুন্দর হতে হবে আর ছেলেরা সোনা হিরার আন্টি, তা বাকা হলেও সমস্যা নেই। এই মানসিকতা বহু আগেই শেষ হয়েছে। কারণ যুগ পালটেছে। আমি কালো বলে কুৎস্রি আর আপনি খাটো মোটা, ভুড়িওয়ালা পুরুষ বলে কুৎস্রি নন, তা আমি মানতে রাজি না, একজন সচেতন নারী মানবে না।   একজন সংবাদকর্মী হলেও এই মন্তব্য, এই মানসিকতা, বদলান তবেই না যোগ্যতা সম্পূর্ণ পুরুষ হয়ে মানুষ হবেন। কয়েক বছর আগে আমার কয়েকটি সংবাদের জন্য সেই সময়ের জেলার প্রধান গুরুত্বপূর্ন একজন প্রশাসনিক ব্যক্তি খুব ক্ষিপ্ত হলেন। রেগে গিয়ে তার কয়েকজন অফিসের স্টাফের সামনে বললেন, ঐ সাংবাদিক মেয়েটা না, দেখতে অসুন্দর, মুখ ভর্তি দাগ, কালো ইত্যাদি ইত্যাদি। শুনে আমি তো ...