‘ডায়ালের অপর প্রান্তে রিসিভ ই হয় না’
০ আলমগীর জয় ০
মেয়েটা আমার
প্রতিদিন সংযোগের আশায় ডায়াল করে। ডায়াল করেই কানে দেয়। তারপর সে কিছু বলতে থাকে।
কি যে বলে, সে নিজেই বুঝে কিনা জানি না। অনেকক্ষন বলে বলে শেষ সময়ে আশাবাদ
ব্যক্তের ভঙ্গিমায় মাথা নেড়ে রেখে দেয়।আবার সে একই কাজ করে। দিনে অসংখ্যবার করতেই
থাকে। আমি দেখি আর মনে মনে হাসি।
মেয়েটা আমার
মাত্র ১৭ মাসের। বাবা-আব্বা, ও বাবা- ও আব্বা শব্দ গুলোই বেশি বলে। কদাচিৎ মা এবং
আপা বলে। আপাতত এ শব্দগুলোই শিখেছে। এর বাইরে ভা
(ভাই)-দা (দাদা) বলতে পারে।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেই সংযোগ যন্ত্রটা আমার
থেকে নিবে। চেপে চেপে লক খুলতেও পারে। কিছুক্ষন বাটন চাপবে। তারপরেই কানে দিবে।কি
বাটন চাপল ওই জানে। মাঝে মাঝে চেক করি। কখনো কখনো সেভ করা নাম্বারেও ডায়াল করে।তবে
বেশির ভাগ ডায়ালই থাকে অসম্পূর্ণ।
আমি ডায়াল করে বাবা-মা-ভাই-শশুড়-শাশুড়ী’র
সাথে কথা বলা শেষে ওকেও দেই। আর ও যখন নিজে নিজে ডায়াল করে, হোক সেটা অসম্পূর্ণ বা
ভুল, হয়তো ও ভাবে, ও তাদের সাথেই কথা বলছে। ও পাশ থেকে রিসিভ না হলেও, রিসিভ হয়েছে
মর্মেই ওর ভাষায় কথা বলে। ও বুঝতে পারে না যে, রিসিভ হয়নি।তথাপি বলে যায় ওর ভাষায়।
ও শিশু-একেবারেই শিশু, তাই বুঝতে পারে না। কিন্তু আমি বুঝতে পারি রিসিভ হয়নি।
যেহেতু রিসিভ হয়নি, তাই ও কি বলছে অপর প্রান্তে পৌছায় না। আর ও কি বলছে, তা ও ছাড়া
কেউ বুঝবেও না। কারন প্রচলিত শব্দভান্ডারই ও শিখেনি-বয়স হয়নি।
-০-
এবার একটি ছোট্ট ঘটনা বলি। কোথাও পড়েছিলাম
হয়তো।
আধুনিক যুগের এক মেয়ে। রান্না শিখেনি। ভাবছে
রান্না করাটা খুব সহজ কাজ।তবে খিচুড়ি রান্নার রেসিপিটা মুখেস্ত আছে। প্রয়োজনে
সেটা দিয়েই চালিয়ে নেবে।
একদিন বাসায় কেউ নেই। খিচুড়ি রান্নার
প্রস্তুতি নিল। পানি- চাল-ডাল-তেল-মরিচ-মসলা দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিয়ে বইয়ে লিখা
নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করল। হাড়িটা নামিয়ে খিচুড়ি বাড়তে গেল। কিন্তু হায় !
খিচুড়ি কই? যেভাবে চাল-ডাল-মসলা হাড়ি দিয়েছিল সেভাবেই রয়ে গেছে।মেয়েটা ভাবল হয়তো
কোথাও ভুল হয়েছে, তাই আবার চেষ্টা করলো। এবারেও কাজ হলো না। আবারও চেষ্টা করলো,
তাতেও কাজ হল না। তখন সে ক্ষ্যান্ত দিল। বিকেলে তার মা বাসায় এলে সব বলল।তার মা
জিজ্ঞাসা কলল, চুলার খড়িতে কি আগুন দেয়া হয়েছিল? মেয়ের উত্তর, না- রেসিপির বইয়ে তো
তা লিখা ছিল না।
-০-
০১। প্রতিদিনই আমি অসংখ্যবার ডায়াল করি।
তারপর কিছু বলি। আশাবাদ ব্যক্ত করি। ভাবি অপর প্রান্তে রিসিভ হয়েছে, আমার কথা
শুনেছেন, আশাবাদ গ্রহণ করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে অপর প্রান্তে রিসিভ ই হয়নি।
বাদবাকি বলার কি আর প্রয়োজন আছে?
০২। পানি-চাল ডাল-মসলা কম বেশি হলেও খুব
বেশি সমস্যা হত না- হয়তো জাও খিচুড়ি হত; কিন্তু চুলায় তো আগুনই নাই .......... (আর
বলালাম না)
*** আসুন যথাযথভাবে ডায়াল করে সংযোগের চেষ্টা করি; উপাদান যাই হোক খিচুড়ি রান্নার
সময় চুলায় আগুন দেই ****
-০-০-
উপলব্ধি
০৭ জুলাই, ২০২০
ফরিদপুর।

Comments
Post a Comment