মাথার বুদ্ধি যখন হাটুর নিচে
০ আলমগীর জয় ০
সূফীবাদে একটি কথা খুব প্রচলিত।‘আধ্যাত্নিক জ্ঞান থাকে
সিনায় আর জাগতিক জ্ঞান থাকে মাথায়।’ সিনার জ্ঞান সিনায় সিনায় ট্রান্সফার হয় আর
মাথার জ্ঞান অর্জিত হয় বই পড়ে; কাজ-কর্ম দেখে দেখে; অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
এবারে একটি বাস্তব ঘটনা বলি।
তবে স্থান কাল পাত্র কোন কিছুই বলবো না।
জনপ্রিয় এবং খুবই
কর্মঠ-মেধাবী প্রিন্সিপাল স্যার বসে আছেন তার কক্ষে- চেয়ারে। কিছু ছাত্র, তারা
আবার নেতাও বটে। স্যারের রুমে ঢুকল- হাতে দরখাস্ত। স্যার রসিক মানুষও। সব
শিক্ষার্থীই অতি আপন, তুমি তুই প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্বোধন করেন। বললেন- কিরে কি
নিয়ে এসেছিস; দরখাস্ত এগিয়ে দিলে দেখে বললেন, যাহ, অনুমতি দিয়ে দিলাম। দে, কলম দে,
সই করে দেই। বুক পকেট থেকে বের করে স্যারের হাতে দেয়া হল। সবাই তাকিয়ে স্যারের
মুখের দিকে। হঠাৎ স্যার হুঙ্কার দিয়ে বললেন, তোরা আমাকে তোদের সামনে এই বয়সে বিড়ি
খেতে দিচ্ছিস? সম্বিৎ ফিরে পেল ছাত্ররা। সরি বলে ওটাকে ফেরত নিল। স্যার বললেন,
সিঙ্গেল সিগারেট কখনোই বুক পকেটে রাখতে নেই, রাখলে আজকের মত সব সময়ই লজ্জা পাবি।
কিরে লজ্জা পেয়েছিস?... ভুল হয়ে গেছে স্যার... সরি... সমস্বরে ....
আসল প্যাচালে যাই ...
সাড়ে ৫ বছরের ছেলেটা সব
সময়ই কার্টুন দেখবে, আর ১৭ মাসের মেয়েটা সব সময় এ্যাড দেখবে। ছেলেটা রিমোট চালাতে
পারলেও মেয়েটো পারে না। আমাকে দেখলেই বাবা বলে রিমোট এনে হাতে দিবে। তারপর
টেলিভিশনের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলবে .. ও ই টা। এ্যাড শেষ হলে মেয়েটা আবার রিমোট
হাতে দিবে, আবার চ্যানেল চেঞ্জ, আবার এ্যাড। যাহোক, সপ্তাহ খানেক আগে সন্ধ্যায়
দেখি মেয়েটা রিমোট টেলিভিশনের দিকে উচু করে ধরে বাটন চাপছে আর কাদছে। বুঝলাম এ্যাড
দিতে হবে। চ্যানেল পাল্টাতে গেলাম, হচ্ছে না। ছেলেটার দিকে তাকালাম।
‘রাগ-ভয়-কান্না’ এই তিন মিশ্রনের চেহারায় ধমকের সুরে শুদ্ধ ভাষায় বলল, দেখছ না, লক
হয়েছে, আমি করি নাই, বুনু ই করেছে.... ।
কয়েকদিন চেষ্টা করেও
সমাধান হল না। বিকেলে র্যাংগস সো রুমে গেলাম। দুজন বসে আছেন। সমস্যা বললাম, তারা
আমাকে ভেতরের রুমের একজনের কাছে পাঠালেন। তাকে টিভির সমস্যার কথা বললাম। তিনি
বললেন, সম্ভবত টিভির মেমোরির সমস্যা হয়েছে, এর সাথে আরও কিকি সমস্যার কথা তিনি
বললেন। পরামর্শ দিলেন, টেলিভিশন সো রুমে নিয়ে যেতে। সারতে কয় দিন লাগতে পারে জবাবে
বললেন, ঢাকা থেকে মাল এনে তারপর ঠিক করতে হবে। সময় লাগবে। কত টাকা লাগতে পারে?
বললেন, ওয়ারেন্টির সময় থাকলে সার্ভিস চার্জ লাগবে না। শুধু মালের টাকা দিতে হবে।
আর ওয়ারেন্টি না থাকলে মালের সাথে সার্ভিস চার্জ দুইশত টাকা যোগ হবে।
সন্ধ্যায় ওয়ারেন্টি কার্ড খুজে বের করলাম। কাল টিভি সো রুমে নিয়ে যাব সিদ্ধান্ত নিলাম। তারপর ইউটিউবে মাছ চাষ পদ্ধতি দেখছিলাম। এ সময় দোস্ত জয়ন্ত [ Jayanta Bhattacharja ] ফোন করল। বাসায় আসতে বলালাম। এল, গল্প করলাম। চলে যাবে এ সময় টিভির সমস্যার কথা বললাম।ও টিভি গাইডটা দেখতে বলল, না পেলে গুগলে সমাধান খুজতে বলল। ও যাবার পর গুগলে খুজলাম, আধা মিনিটেই পেয়ে গেলাম। ট্রাই করলাম, টিভির সমস্যা সমাধান হল।
খাটে বসে নিজের বোকামিটা
স্মরণ করলাম আর ভাবলাম সাত দিনে মেয়েটাকে খাবার খাওয়াতে ওর মায়ের কি কষ্টই না করতে
হয়েছে !!!
এবার সো রুমে টিভি
সার্ভিসিং এর লোকটার কথাও মনে হল। সো রুমে আছেন সার্ভিসিং এর দায়িত্ব নিয়ে, অথচ
সামান্য বিষয়ে তিনি আমাকে আর্য যুগের ইতিহাস শোনালেন !!!
-০-
সেন্সের অভাব
১২ জুলাই, ২০২০
ফরিদপুর
-০-
[[
টেলিভিশনের লক খোলা / আনলক সিস্টেম ::: টিভি ওপেন করে রিমোটের Display
বাটনটা চেপে ধরে রাখতে হবে যতক্ষন না আনলক হয়।]]



Comments
Post a Comment