মুলার উপকারিতা
মুলার
উপকারিতা
__________________
সম্পাদনা: আলমগীর জয়
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
নানা
বাড়ির পাশে এক চিলতে জমিতে
ছোট বেলায় দেখেছি মামাকে মুলা চাষ করতে। সোমবার আর বৃহস্পতিবার সকাল
থেকেই সেই জমি থেকে মুলা উঠানো হত। বড় চারি বা
ভাটিতে পানি দিয়ে মুলা পরিষ্কার করে ধুয়ে পাশের তালতলায় বিক্রি করা হত। আমরা খুব বেশি চাষাবাদের মধ্যে নেই। বাজার থেকে আমার দাদা শীতের দিনে মুলা আনতেন। নিজেও ছোট বেলায় মুলা কিনেছি। বহু দিন হলো মুলা কেনা হয়নি। খুব বেশি পছন্দও নয় আমার। মুলা
নিয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতাও নেই।
আজ
সকালে আমাদের আনোয়ার ভাই’র টেবিলে ছিলাম।
মুলার উপকারীতা বলছিলেন। টেবিলে এসে, নেটে সার্চ দিলাম। দেখলাম মুলা বিশাল উপকারী সব্জি। নেট থেকে সংগৃহিত তথ্যাদি নিম্নে পরিবেশন করা হলো।
মুলা
Cruciferae গোত্রের জনপ্রিয় সবজি। পাতা ভিটামিন এ, বি ও
সি সমৃদ্ধ। আমাদের দেশে সাদা ও লাল দুই
প্রকার মুলা দেখা যায়। পুষ্টি গুণের দিক দিয়ে দু’টিই সমান
মূল্যবান। মুলার চেয়ে মুলার পাতার গুণ বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার। এটি সাদা, লাল, বেগুনি ও কালো রঙ্গের
হলেও সাধারণত আমাদের দেশে সাদা ও লাল রঙ্গের
মুলাই চাষাবাদ হয়।
পুষ্টিগুন:
প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে আছে : প্রোটিন ০.৭গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪গ্রাম, ফসফরাস ২২মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০আই.ইউ, লোহা ০.৪গ্রাম, ফ্যাট ০.১গ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮মিগ্রা, আঁশ ০.৮গ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫মিগ্রা।
প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে আছে : প্রোটিন ০.৭গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪গ্রাম, ফসফরাস ২২মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০আই.ইউ, লোহা ০.৪গ্রাম, ফ্যাট ০.১গ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮মিগ্রা, আঁশ ০.৮গ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫মিগ্রা।
মুলার
যত উপকারিতা:
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুলা উপকারী। এর সব অংশই কাজে লাগানো যায়। যেসব ক্ষেত্রে মুলা উপকারী ভূমিকা রাখে তার কিয়দাংশ পয়েন্ট
আকারে উল্লেখ করা হলো।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুলা উপকারী। এর সব অংশই কাজে লাগানো যায়। যেসব ক্ষেত্রে মুলা উপকারী ভূমিকা রাখে তার কিয়দাংশ পয়েন্ট
আকারে উল্লেখ করা হলো।
০১।
জন্ডিস
মুলা রক্ত পরিশোধন করে। শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে। এটি জন্ডিসের চিকিৎসায় ভীষণ কার্যকরী। কারণ এটি রক্তে বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।
মুলা রক্ত পরিশোধন করে। শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে। এটি জন্ডিসের চিকিৎসায় ভীষণ কার্যকরী। কারণ এটি রক্তে বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।
০২।
ক্যান্সার
নিয়মিত মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এই সবিজটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপাদানে সমৃদ্ধ। এই উপাদান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকরী। বিশেষ করে কোলন, কিডনি, ক্ষুদ্রান্ত্র, পেট এবং মুখের ক্যান্সারে খুবই কাজ দেয়।
নিয়মিত মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এই সবিজটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপাদানে সমৃদ্ধ। এই উপাদান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকরী। বিশেষ করে কোলন, কিডনি, ক্ষুদ্রান্ত্র, পেট এবং মুখের ক্যান্সারে খুবই কাজ দেয়।
০৩।
কিডনি
মুলা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো করতে সাহায্য করে। কারণ এই সবিজ মূত্রবর্ধক প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়া এটি রক্তে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
মুলা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো করতে সাহায্য করে। কারণ এই সবিজ মূত্রবর্ধক প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়া এটি রক্তে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
০৪।
কোষ্টকাঠিন্য
মুলা হজম প্রক্রিয়ার জন্য খুবই ভালো। এতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
মুলা হজম প্রক্রিয়ার জন্য খুবই ভালো। এতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
০৫।
ওজন
এই সবজিটি খেলে ওজন খুব একটা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ওজন কমাতে চাইলে মুলা খাওয়া শুরু করতে পারেন।
এই সবজিটি খেলে ওজন খুব একটা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ওজন কমাতে চাইলে মুলা খাওয়া শুরু করতে পারেন।
০৬।
পাইল্স
মূলায় প্রচুর আঁশ থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচতে আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য পাইল্স এর অন্যতম কারণ। যেহেতু মূলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না তাই পাইল্স থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
মূলায় প্রচুর আঁশ থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচতে আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য পাইল্স এর অন্যতম কারণ। যেহেতু মূলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না তাই পাইল্স থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
০৭।
মূত্রতন্ত্র
মূলা খেলে মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মূলার রস প্রশ্রাবের সময় জ্বালা-পোড়া ও মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। কিডনী পরিষ্কারক ও প্রদাহ দূরকারী।
মূলা খেলে মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মূলার রস প্রশ্রাবের সময় জ্বালা-পোড়া ও মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। কিডনী পরিষ্কারক ও প্রদাহ দূরকারী।
০৮।
হৃদরোগ
মূলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থো-সায়ানিন থাকে। এটি এক ধরনের ফ্লাভোনয়েড যা শুধু মূলায় রং দেয় না, পাশাপাশি রয়েছে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
মূলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থো-সায়ানিন থাকে। এটি এক ধরনের ফ্লাভোনয়েড যা শুধু মূলায় রং দেয় না, পাশাপাশি রয়েছে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
০৯।
ধবল রোগ
লিউকো-ডার্মা বা ধবল রোগের চিকিৎসায় মূলার বীজ ব্যবহৃত হয়। মূলার বীজ পাউডার করে ভিনেগার, আদার রস অথবা গরুর মূত্রে ভিজিয়ে সাদা বা ধবল দাগে লাগালে ধবল রোগ দূর হয়। মূলার রস খেলেও দ্রুত ধবল রোগ দূর হতে সহায়তা করে।
লিউকো-ডার্মা বা ধবল রোগের চিকিৎসায় মূলার বীজ ব্যবহৃত হয়। মূলার বীজ পাউডার করে ভিনেগার, আদার রস অথবা গরুর মূত্রে ভিজিয়ে সাদা বা ধবল দাগে লাগালে ধবল রোগ দূর হয়। মূলার রস খেলেও দ্রুত ধবল রোগ দূর হতে সহায়তা করে।
১০।
অ্যাজমা রোগ
মূলা শ্বসনতন্ত্রের সংকোচনের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি নাক, গলা, শ্বাসনালী এবং ফুসফুসকে সর্দি, অ্যালার্জিজনিত উপদ্রপ দূর করে। জীবাণুরোধী এবং ভিটামিন থাকায় শ্বসনতন্ত্রকে প্রদাহ থেকেও রক্ষা করে।
মূলা শ্বসনতন্ত্রের সংকোচনের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি নাক, গলা, শ্বাসনালী এবং ফুসফুসকে সর্দি, অ্যালার্জিজনিত উপদ্রপ দূর করে। জীবাণুরোধী এবং ভিটামিন থাকায় শ্বসনতন্ত্রকে প্রদাহ থেকেও রক্ষা করে।
১১।
রক্তচাপ
মূলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ কমায়।
মূলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ কমায়।
১২।
ডায়াবেটিস
মূলা ডায়াবেটিস এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
মূলা ডায়াবেটিস এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
১৩।
ত্বক পরিচর্যা
ভিটামিন-সি, ফসফরাস, জিংক এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স থাকায় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ভিটামিন-সি, ফসফরাস, জিংক এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স থাকায় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
১৪।
জ্বর
জ্বর হলে বিট লবণের সাথে মূলার রস পান করলে
উপকার পাওয়া যায়।
১৫।
ডিহাইড্রেশন
মূলায় প্রচুর পানি থাকে। তাই শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়ক।
মূলায় প্রচুর পানি থাকে। তাই শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়ক।
১৬।
মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধি
যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তারা নিয়মিত মূলা খেলে বুকের দুধ বাড়বে।
যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তারা নিয়মিত মূলা খেলে বুকের দুধ বাড়বে।
১৭।
গ্যাস দূরীকরণ
গুরুপাক খাবারের ফলে যাদের পেটে ব্যাথা ও গ্যাস জমা হয়, তারা মূলার রসের সাথে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাবেন।
গুরুপাক খাবারের ফলে যাদের পেটে ব্যাথা ও গ্যাস জমা হয়, তারা মূলার রসের সাথে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাবেন।
উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে উপকারিতা ছাড়াও মুলা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকার করে থাকে। যেমন:- মূলা ক্ষুধা বৃদ্ধিকারক, মুখ ও শ্বাস পরিষ্কারক। ক্যালসিয়ামের অভার দূর করে। মাথা ধরা, এসিডিটি, বমিবমি ভাব, মোটা হওয়া, গলা ব্যথা, হুপিং কাশি, গ্যাসট্রিক, পিত্তথলির পাথর, অজীর্ণ ইত্যাদি থেকে বাঁচায়। ভাত/রুটি খাওয়ার সময় কাঁচা মূলা খেলে তাড়াতাড়ি হজম হয় ও রুচি বাড়ে। শীতকালে কাচা মুলা কাজের উৎসাহ বাড়ায়, হজম শক্তি ও শরীরের পুষ্টির হার বাড়িয়ে দেয়। মুলার শাক বেশী মাত্রায় খেলে প্রস্রাব ও মল পরিস্কার হয়। মুলা শাক কাচা খেলে পিত্ত বৃদ্ধি পায়, তেলে ভেজে খেলে কিংবা রান্না করে খেলে অনেক উপকারী।
আসুন
আমরা বেশিবেশি মুলা খাই এবং বাজারে মুলার মূল্য বৃদ্ধি ঘটাই।
[লেখাটি
বিভিন্ন ওয়েব থেকে সংগ্রহ করে সম্পাদনা করা হয়েছে]
===========
আলমগীর জয়
সাবেক সংবাদ কর্মী, ফরিদপুর
===========
আলমগীর জয়
সাবেক সংবাদ কর্মী, ফরিদপুর
মোবাইল: ০১৯১২১৪৪৮৪৯

Comments
Post a Comment