লাজুক হেমন্তে কৃষকের সাথে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সুন্দর বিকেল
লাজুক হেমন্তে কৃষকের
সাথে
ফরিদপুর জেলা
প্রশাসকের সুন্দর বিকেল
০০০ আলমগীর জয় ০০০
নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যময় প্রকৃতি। আকাশ থেকে খণ্ড খণ্ড মেঘ সরে গিয়ে উন্মুক্ত হয়
বিশাল নীল আকাশ। ডোবার কিঞ্চিৎ
পানিতে ফোটে রূপসী কন্যা কলমি। চোখ আটকে যায় শুকনো জলাশয়ে ঝিমানো কচুরিপানার বেগুনি-শাদা
ফুলকলিতে। ঠান্ডাঠান্ডা, অল্পায়ু দিনের
শেষ বিকালে কুয়াশার আবছা চাদর প্রকৃতিকে ঢেকে শিশিরের শব্দের মতো নেমে আসে
সন্ধ্যা। দূর্বা ঘাসের গায়ে রূপের গয়না
পরায় রাতে শিশির। বৃক্ষ
রাজি সবুজে ভরা। গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় হালকা শীতের আমেজ। স্নিগ্ধ হেসে হাজির হয় সোনার শীষ ঝুম ঝুম ঋতু। যাকে বলে কৃষক মজুরের
হাসিমাখা ঋতু। রূপ বৈচিত্র্যে অনন্য প্রকৃতির ভেতর একেবারেই ভিন্নমাত্রার এক লাজুক
ঋতু হেমন্ত। জীবন
ও প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য সময়।
এ সময়ে
মানুষ মূলত: ফসলের সর্বশেষ পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে একাগ্র। আদিগন্ত মাঠ জুড়ে
রোপিত পেয়াজের প্রাচুর্য, সবুজ স্বপ্ন দুলছে বাতাসে।
সূর্যটা মাথার উপর থেকে সরে তখন
পশ্চিমে যাত্রা শুরু করেছে। মাঠে কাজে ব্যস্ত শতশত কৃষক কৃষানী। আর এমনই এক সময়
হঠাৎই মনভোলানো পরিকল্পনায় ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের
সংযোগস্থল কামারডাঙ্গী গ্রামের ফসলের মাঠে হাজির ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক জনাব অতুল
সরকার। তার উপস্থিতিতে ক্রমেই জড়ো হলেন মাঠের কৃষকরা। তাদের সাথে নিয়ে একের পর এক
বাট (প্লট) পরির্দশন করে চললেন জেলা প্রশাসক। অধিকাংশ বাটে পেয়াজের সবলতা লক্ষ
করলেন; কোথাও দেখা গেল ঘাসের আধিক্য। কোন বাটে আবার পেয়াজের চারা দুর্বল, কোন বাটে
মলিন। কোথাও কোথাও চারা মা’র যেয়ে সারিতে চারা চ্ছেদ পড়েছে। কোন কিছুই চোখ এড়াল না
জনাব অতুল সরকারের।
ত্রুটিপূর্ণ বাটের কৃষকদের সাথে
কথা বললেন, জানতে চাইলেন সমস্যা ও উত্তরণের উপায়। কৃষকরা জানালেন, নিড়ানীর পর্ব
চলছে, এটা শেষ হলেই ঘাস থাকবে না। যথাযথ পরিচর্যা হলে পেয়াজ চারার দুর্বলতা,
মলিনতাও কেটে যাবে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবার পেয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা
জেলা প্রশাসক জনাব অতুল সরকারকে জানালেন। পেয়াজ ক্ষেতের সাথে সাথে মাঠে আবাদিত
রসুন ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতও পরিদর্শন করলেন।
মাঠে নানা বয়সী কৃষকদের সাথে কথা
বলে তাদের কৃষিকাজ বিশেষ করে পেয়াজ চাষে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি যথাযথভাবে পেয়াজ
সংরক্ষণের জন্য বললেন। আবহমান কাল ধরে কৃষকের সাথে সাথে যে কৃষানীরাও মাঠে কাজ
করেন তার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল এই মাঠে। কৃষানীদের কেউ কেউ নিড়ানী
দিচ্ছিলেন, কেউ বা হাত দিয়ে দুধেল শাক তুলছিলেন। আবার দু’চারজনকে দেখা গেল সরিষা
আর মুলা শাক তুলতে। উপস্থিত কৃ-কৃষানীরা আহবান জানালেন, জেলা প্রশাসক যেন মাঝে মাঝেই
তাদের মাঠ দেখতে আসেন। তাদের নিয়মিত খোজ খবর নেন। যেকোন সময় যে কোন বিষয়ে জেলা
প্রশাসক তার সরকারি এবং ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কৃষকদের যোগাযোগ রাখতে বললেন।
পশ্চিমে যাত্রা করা সূর্যটা ততক্ষণে তার গন্তব্য ‘অস্ত
যাওয়া’র কাছাকাছি। এবার কৃষক-কৃষানী আর জেলা প্রশাসকের মাঠ ছেড়ে আসলেন স্থানীয় লাল
খান বাজারে। সেখানে বসে কৃষকদের কৃষি কাজে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সমস্যা শূনলেন,
সমাধানের আশ্বাস দিলেন। বিশেষ করে ভেজাল কীটনাশক বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে
প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন। শতকরা মাত্র ৪
টাকা সুদহারে কৃষকদের ঋণ নেয়ার বিষয়ে বললেন। লাজুক হেমন্তে কৃষকদের
সাথে জেলা প্রশাসকের এই সুন্দর বিকেলে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জনাব কার্তিক চন্দ্র
চক্রবর্তী। খবর পেয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোস্তাকুজ্জামান
মোস্তাক।
-০-
তথ্যসূত্র:
ইনট্রো (সাহিত্যাংশ)- সম্পাদিত;
অন্যান্যাংশ: প্রাকটিক্যাল।
-০-
লেখক: আলমগীর জয়, ফরিদপুর
মোবাইল: ০১৯১২১৪৪৮৪৯
তারিখ: ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ।
তথ্যসূত্র:
ইনট্রো (সাহিত্যাংশ)- সম্পাদিত;
অন্যান্যাংশ: প্রাকটিক্যাল।
-০-
লেখক: আলমগীর জয়, ফরিদপুর
মোবাইল: ০১৯১২১৪৪৮৪৯
তারিখ: ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ।
Comments
Post a Comment