পেঁয়াজের পর্দা; শেষ কোথায়?
বাস্তবতায় জীবনবোধ-০১
পেঁয়াজের পর্দা; শেষ কোথায়?
০ আলমগীর জয় ০
পেঁয়াজ নিয়ে চোখের পানির আর শেষ নাই। যদি দাম বাড়ে, তো নিউজে সয়লাব, ‘পেঁয়াজের ঝাঁজে অতিষ্ঠ ক্রেতা’। আবার যদি দাম কমে-হুহু করে নিউজ আসে, ‘দাম পেল না কৃষক, ক্ষেতেই সার হচ্ছে পেঁয়াজ’।
দাম কম অথবা বেশি-ওটা চলতেই থাকবে। তাই পেঁয়াজের কম বেশি দামের হিসাব বাদ
দেন। কিন্তু তাতে কি ঝাঁজ কমবে? না; যত টেকনিকই অবলম্বনই করি না কেন পেঁয়াজ কাটতে গেলেই
ঝাঁজ বেরুবে-আর বেরুবে চোখের পানি ...
দামের ঝাঁজ বা বাস্তবতার ঝাঁজ- এই দুটোই নিস্পৃহ হতে পারে যদি আমরা পেঁয়াজকে
খুলতে শুরু করি। ক্ষেত থেকে উড়িয়ে প্রথমের লাল পর্দাটা খুলে ফেলি, তারপরে পরের পর্দা,
তারপর? হ্যাঁ, তারপরে একের পর এক পর্দা খুলতে থাকি। এভাবে একসময় দেখতে পাব আর কোনো
পর্দা নাই। পর্দার পরে পর্দা তারপরে আর কিছু নাই। যেন একটা জীবনের প্রতিচ্ছবি।
মনে পড়ে?
মায়ের কোল, দাদা, দাদি, নানা, নানি, খালা, খালু, মামা, মামী, ফুফু, ফুফা,
চাচা, চাচাদের কোলের কথা? পাড়া-প্রতিবেশীদের কোলে নেয়ার কথা? মনে পড়লেও কিছু করার নেই।
কেননা কয়েক বছর পরেই তারা বলেছিল, তুইতো বড় হয়ে গেছিস, তোকে আর কোলে নিতে পারি না।
বুঝিয়ে দিয়েছিল তাদের কোলে থাকার যোগ্যতা আর নাই।
এই তো সেদিনের কথা। চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো, মামাতো আর পাড়া প্রতিবেশী সমবয়সীদের সাথে কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, গোল্লাছুট, চারটি, লাঠি খেলা, লং জাম্প, সাত পাতা, ফুল টেক্কা, মোরগ যুদ্ধ খেলার কথা মনে আছে? সেটাও বাদ দিতে হয়েছিল সেই একবাক্যে, ‘খেলাধুলার অনেক সময় পাওয়া যাবে-এখন পড়ার সময়।’
আচ্ছা পড়ার সময় হোক না সেটা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বা আরো উচ্চ কিছু; ওই
যে একজনের বই আরেকজনের বইয়ের ব্যাগের ভিতরে ঢুকিয়ে মজা নেয়ার কথা মনে পড়ে কি? মনে পড়ে
কি অ্যাসেম্বলি বা শপথ না পড়ার জন্য ক্লাসরুমের পেছনে একটু পালিয়ে থাকার কথা? নম্র,
ভদ্র, ভাল ছাত্র খ্যাতি পাওয়ার প্রচেষ্টায় সেই সবই ভুলতে হয়েছিল। একটি ধাপের পর আরেকটি
ধাপ- পেরুতে পেরুতে আরো কত ধাপ যে পার হতে হল সেই ভাল ছাত্র খ্যাতির প্রত্যাশায়
.......
আসুন একটু ভেবে দেখিতো-
এটার পরে ওটা, ওটার পরে সেটা, এমন করেই ধর্ম-অধর্ম, কাম-প্রেম, বৈধ-অবৈধ
নানা চড়াই উৎড়াই শেষ।
জীবনের কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? ... পেঁয়াজের শেষ পর্দায় ...
-০-
[‘পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম গোত্রের উদ্ভিদ। পেঁয়াজ গাছে ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত
কাণ্ড দেখা যায়। কাণ্ডটি ছোট চাকতির মত। এটি ঝাঁজ যুক্ত রসালো শল্কপত্র দ্বারা আবৃত
থাকে। শল্কপত্রগুলি একটির পর একটি সাজানো থাকে। এই পরিবর্তিত কাণ্ড পুটিত কাণ্ড নামে
পরিচিত। কাণ্ডের নিচের দিকে এক গোছা অস্থানিক মূল থাকে। উপরের অংশে পাতা, ফুল দেখা
যায়।–উইকিপিডিয়া]
-০-
আলমগীর জয়, ফরিদপুর
মোবাইলঃ 01912144849
29 জানুয়ারি 2025 খ্রিষ্টাব্দ
-০-


Comments
Post a Comment